সনাতন ধর্ম সকলের নিকট পরম আশ্রয় ও শ্রদ্ধেয়। ভৌগোলিক ভাবে কোনো সীমাবদ্ধতায় সনাতন ধর্মকে আবদ্ধ করা যায় নাহ। সত্য সনাতন সকলের নিকট পরম শ্রদ্ধার। কারণ, দেশ-কাল পেরিয়ে সকলকে ভাতৃত্বের বন্ধনে, ভালোবাসার বন্ধনে, আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে সত্য সনাতন বৈদিক ধর্ম। কারণ, মনুষ্যত্বই সনাতন এর আদর্শ, প্রেরণা ও শক্তি। কারণ এই অমৃত জ্ঞানই মানুষের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।
"মনুর্ভব জনয়া দৈব্যং জনম্" -ঋগ্বেদ ১০.৫৩.৬
অর্থাৎ, প্রকৃত মানুষ হও এবং অন্যকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
এই বিশ্বজনীন আদর্শ সর্বদা সকলের নিকট হয়েছে সমাদৃত ও পূজিত। সে মহানুভবতার টানে মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল হয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতা, স্যামুয়েল ইভান্স স্টোকস হয়ে গিয়েছিলেন সত্যনন্দ স্টোকস, পুলিশ ইন্সপেক্টর জন মন্টগোমারি হ্যামিলটন হয়েছিলেন সুখ লাল। সনাতন এর এমনি উদারতা ধারক যা সকলকে আকৃষ্ট করে।
সনাতন এর মহানুভবতা ভারতবর্ষের সীমা পেরিয়ে পৌঁছে যায় সূদুর আফ্রিকায়। কালো কিংবা সাদা, নারী বা পুরুষ সকলের নিকট সনাতন এর অমৃত সুধা পৌঁছে যায়। মৌমাছি যেমন পুষ্পে আকৃষ্ট হয় মধু আহরণের উদ্দেশ্যে, সত্যান্বেষী তেমনি সনাতন এর অমৃত, যৌক্তিক ও আলোকপ্রদ জ্ঞান এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তেমনি আকৃষ্টতায় এসেছিলেন স্বামী ঘনানন্দ।
আফ্রিকার দরিদ্র পীড়িত দেশ ঘানায় জন্মগ্রহণ করেন স্বামী ঘনানন্দ সরস্বতী। আদিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তার পিতা মাতা খ্রিষ্টমত গ্রহণ করে। কিন্তু শৈশব থেকেই মহাবিশ্বের রহস্যের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং বিবিধ ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করতেন। ধীরে ধীরে সে সত্যের অনুসন্ধানে তিনি অধ্যয়ন করেন সনাতন অমৃত শাস্ত্র। যা তার জ্ঞান পিপাসা আরো জাগ্রত করে তুলেছিল। পরবর্তী সময়ে ভারতের উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের আধ্যাত্মিক গুরুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যা তাকে জীবনের সঠিক দিশা প্রদান করে। এই অনুপ্রেরণার ফলে তিনি ঘানার রাজধানী আক্রাতে মঠ স্থাপনের পথে অগ্রবর্তী করে। ১৯৬২ সালে, স্বামী ঘনানন্দ আক্রাতে ফিরে এসে "ডিভাইন মিস্টিক পাথ সোসাইটি" গঠন করেন এবং ধীরে ঋষিকেশের "ডিভাইন লাইফ সোসাইটি" সাথে সনাতন ধর্ম সম্পর্কিত বিবিধ চিঠিপত্রের পাঠক্রম শুরু করেন। এই অমৃতের সন্ধানে তার সাক্ষাৎ ঘটপ স্বামী কৃষ্ণানন্দের সাথে এবং পরবর্তীতে তার শিষ্য হন। ১৯৭৫ সালে স্বামী কৃষ্ণানন্দ স্বামী ঘনানন্দকে দীক্ষা প্রদান করে। সেজন্য, স্বামী ঘনানন্দ সরস্বতী প্রথম হিন্দু সন্ন্যাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
স্বামী ঘনানন্দ সমগ্র ঘানায় সনাতন ধর্মের আদর্শ ও জ্ঞান প্রচারের নিমিত্তে নিজের জীবন অতিবাহিত করেন। স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট অমৃত সুধা পৌঁছে দিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। সশ্রদ্ধ প্রণাম এমন সনাতনী অগ্রদূতের প্রতি। আফ্রিকার প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে নিরলস প্রচেষ্টা একদিন সকলকে সনাতন এর অমৃত জ্ঞানের অধিকারী করবে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.