চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব দেন ওই যুবক। ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত দীপু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন মোট ১৯ জন।
গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম নীরব ইসলাম (২০)। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামের কালিমুল্লাহর ছেলে। নীরব ইসলাম ভালুকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় নিটিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন চেরাগআলী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আজ আদালতে তাঁকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি দীপু চন্দ্র দাসের মরদেহ গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টেনে তুলছেন। ওই ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করে তদন্তকারী দল নীরব ইসলামকে শনাক্ত করে। ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে নেত্রকোনা, বনানী ও গাজীপুরে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে টঙ্গী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীপু হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জনকে তিন দিন করে এবং ছয়জনকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে নেওয়া ১২ আসামির জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় সড়ক বিভাজকের একটি গাছে তাঁকে বিবস্ত্র অবস্থায় ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.