খুলনা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
হিন্দু অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ সংসদীয় আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ মোট আটজন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে এ আসনে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীরাই সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় এবারের ভোটের সমীকরণ কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা চলছে।
খুলনা-১ আসনে জামায়াতসহ মোট ছয়টি রাজনৈতিক দল হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিএনপির দুই নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত দলটির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান।
জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করেছে। এর আগে দলটি বটিয়াঘাটা উপজেলার আমির শেখ আবু ইউসুফকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।
সোমবার মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ৮-দলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। পরবর্তীতে আরও দুটি দল যুক্ত হওয়ায় জোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টিতে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আসনভিত্তিক সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই ১১ জনের মধ্যে মাত্র দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বাকিরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই ১১ জনের মধ্যে আটজনই খুলনা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। অর্থাৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের প্রায় ৭৩ শতাংশই এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-১ আসনেই সবচেয়ে বেশি, মোট ১৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—সম্মিলিত জাতীয় জোটের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভরায়, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কিশোর কুমার রায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, বিএনপির আমীর এজাজ খান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামান, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মণ্ডল। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন গোবিন্দ হালদার ও চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।
চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, শিরোনামভিত্তিক বা অনলাইন নিউজ ফরম্যাটেও সাজিয়ে দিতে পারি।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.