চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত ও আত্মার চিরশান্তি কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আরতি শেষে।
প্রার্থনা সভায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। গীতা থেকে পাঠ করেন ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী প্রমিত দাস, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়েল বড়ুয়া এবং বাইবেল থেকে পাঠ করেন ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী লিটন ত্রিপুরা।
এরপর বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে মূল্যায়নধর্মী সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট শিল্পী দেবাশীষ পাল।
প্রাণপ্রিয় নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনায় বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ হলের শিক্ষকবৃন্দের মধ্যে ড. অসীম কুমার দাস ও সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় দে রিপন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. নেপাল চন্দ্র রায়, প্রফেসর ড. শিমুল হালদার, প্রফেসর ড. মিঠুন সরকার, সহকারী আবাসিক শিক্ষক ড. প্রমথ মিস্ত্রি, ড. উত্তম কুমার, সহযোগী অধ্যাপক মিঠুন কুমার সাহা, সহকারী অধ্যাপক চন্দন কুমার দাস, রথীন্দ্র সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার কুণ্ডু, ড. প্রসেনজিৎ সাহা, সহকারী অধ্যাপক বিভূতি ভূষণ সিকদার, তিতাস কুমার শীল, অমিত নন্দী, দেবাশীষ দাস, ড. কাঞ্চন কুমার সেন, প্রভাষক সঞ্জয় বিক্রম, অশোক কুমার দে এবং সংস্কৃত বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক মধু কুমার রায়। এ ছাড়া জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি পল্লব বর্মনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট দেবাশীষ পাল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা আমাদের মাতৃতুল্য একজন মানুষকে হারিয়েছি।” তিনি বলেন, আপোসহীন নেতৃত্ব ও কর্মগুণের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন গৃহবধূ হয়েও তিনি বারবার দেশের সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিশু-কিশোরদের শিক্ষার প্রসারে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সৃজনশীল চিন্তা ও রুচিবোধ বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক সঞ্জয় দে রিপন বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নির্মাণে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা কাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরে তিনি খালেদা জিয়াকে আলোকপ্রাপ্তির নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবাসিক শিক্ষক ড. অসীম কুমার দাস বেগম খালেদা জিয়াকে একজন মহানেত্রী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ৩০ তারিখ জিয়া পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। তাঁর সৌন্দর্যবোধ, সংযমী আচরণ ও পরিমিত চিন্তাধারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিদায়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বই তাঁকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, দেশ যখন খালেদা জিয়ার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই তাঁকে হারাতে হয়েছে। তাঁর চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবাইকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে কোনো রাজনৈতিক নেত্রীর প্রয়াণে এ ধরনের প্রার্থনা সভা এই প্রথম। অসাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের প্রতি বিরল সম্মান জানিয়ে জগন্নাথ হলের এই আয়োজন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।