চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের সাদাসিধে মানুষ, পল্লী চিকিৎসক ও কেউরভাঙ্গা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী এবং বিকাশ/নগদ এজেন্ট খোকন চন্দ্র দাস আর নেই। আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন দাসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে স্থানীয় তিন-চারজন কিশোর ও যুবক তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনাটি প্রথমে ছিনতাই ও দুর্বৃত্তায়নের ঘটনা হিসেবে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় খোকন দাস হামলাকারীদের চিনে ফেললে তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে দাহ্য পদার্থ পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৫০) কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা ও পরেশ দাসের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও গ্রাম্য চিকিৎসক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিকাশ ও নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট সেবার ব্যবসা পরিচালনা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কেউরভাঙ্গা বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, খোকন দাসের সঙ্গে এলাকায় কারও কোনো বিরোধ ছিল না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, তাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।