মানুষের হৃৎপিণ্ডের পুনর্জন্ম ক্ষমতার প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা
দীর্ঘদিন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমনটাই ধারণা ছিল যে, হার্ট অ্যাটাকের পর মানুষের হৃৎপিণ্ড আর নতুন কোষ উৎপাদনে সক্ষম নয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার এক সাম্প্রতিক গবেষণা সেই প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, হৃদ্আঘাতের পর মানুষের হৃৎপিণ্ড পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায় না; বরং সীমিত পরিসরে হলেও নতুন পেশিকোষ বা কার্ডিওমায়োসাইট তৈরির ক্ষমতা বজায় রাখে।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপিণ্ডে দাগ বা স্কার টিস্যু তৈরি হলেও, একই সঙ্গে সেখানে নতুন কোষ সৃষ্টির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। অর্থাৎ ক্ষতির পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডে আংশিক পুনর্গঠনের ঘটনাও ঘটে।
এই গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদাপূর্ণ জার্নাল ‘সার্কুলেশন রিসার্চ’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কোষ তৈরির হার তুলনামূলক কম হলেও, এটি ভবিষ্যতে হার্ট ফেইলিওর ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃৎপিণ্ডের বড় একটি অংশের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। তাই এই পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এদিকে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এখন এমন চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা কেবল ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং হৃৎপিণ্ডের পুনরুদ্ধারেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে হার্ট অ্যাটাকের পর হৃৎপিণ্ড সারাতে ওষুধ সরবরাহকারী বিশেষ প্যাচসহ নানা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
গবেষকদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ার এই আবিষ্কার হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক মেরামত ক্ষমতা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সীমিত হলেও এই পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হৃদ্যন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তুলতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি হতে পারে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.