চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
বাংলা বর্ণমালার কিছু অক্ষরের মাথার ওপর যে ছোট, বাঁকানো চিহ্নটি দেখা যায়, তার একটি প্রচলিত নাম হলো ‘চৈতন’। ই, ঈ, উ, ঊ, ঐ, ঔ, ট ও ঠ—এই অক্ষরগুলোর শীর্ষে থাকা চিহ্নটি দেখতে অনেকটা উড়ে বামুনদের মাথার পেছনে রাখা চুলের গোছা বা টিকির মতো। সেই দৃশ্যগত মিল থেকেই এই চিহ্নের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চৈতন’। ভাষাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে টিকি, শিখা, উড়নি, উড়না কিংবা উড়ানি নামেও উল্লেখ করা হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ‘চৈতন’ শব্দটির বানানেই এই চিহ্নটি উপস্থিত রয়েছে।
শুধু রূপগত সৌন্দর্য নয়, বাংলা স্বরচিহ্ন ও ব্যঞ্জনের গঠনে চৈতনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢ বর্ণের ওপর চৈতন যুক্ত হলে তা ট-এ রূপান্তরিত হয়। আবার ড বর্ণে চৈতন বসলে উ ধ্বনি সৃষ্টি হয়। কোনো বর্ণের ডান পাশে চৈতন যুক্ত হলে তার উচ্চারণও বদলে যায়—এ বর্ণের ডান পাশে চৈতন বসালে তা ঐ হয়ে ওঠে, একইভাবে ও বর্ণের পাশে যুক্ত হলে ঔ ধ্বনি গঠিত হয়। এমনকি এ-কার চিহ্নের ওপর চৈতন যোগ করলেই তৈরি হয় ঐ-কার। অর্থাৎ, একটি ক্ষুদ্র চিহ্নই অনেক ক্ষেত্রে পুরো বর্ণের উচ্চারণ ও কাঠামো বদলে দিতে পারে।
অভিধানিক ব্যাখ্যায় ‘চৈতন’ শব্দের অর্থ দাঁড়ায়—বর্ণহিন্দুদের মাথার পেছনে সংরক্ষিত কেশগুচ্ছ, যা টিকি বা শিখা নামে পরিচিত। এই সাংস্কৃতিক ধারণা থেকেই বাংলা বর্ণের মাথার ওই বাঁকানো চিহ্নটির নামকরণ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাংলাভাষার লিখনরীতিতে একটি স্বতন্ত্র ও অপরিহার্য উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.