চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গণপিটুনির ঘটনায় উজ্জ্বল কর্মকার (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল কর্মকার বাউফলের কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরওয়াডেল গ্রামের কৃষক ফিরোজ গাজী নিজ জমিতে তরমুজ চাষ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বড় ডালিমা গ্রামের মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিন বিকেলে ফিরোজ গাজী তরমুজ সংগ্রহ করে ট্রলারে তোলার সময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। মিজানুর ওই জমির মালিকানা দাবি করে টাকা ছাড়া তরমুজ নিতে নিষেধ করেন।

এসময় ফিরোজ গাজী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে রামদা ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া দেয় এবং উত্তেজিত জনতা মিজানুর, উজ্জ্বল ও শামীম নামে তিনজনকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

পরে তাদের চন্দ্রদ্বীপের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ ট্রলারে করে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে উজ্জ্বল কর্মকারের মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম শাকির জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

গুরুতর আহত কৃষক ফিরোজ গাজী ও অভিযুক্ত শামীমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ সরেজমিন তদন্ত চালায়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকেল ৪টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং তদন্তে মানবাধিকার কর্মী দ্বীপ রাজ পাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংগঠনটির সহায়তায় পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে বাউফল থানায় ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মামলা (নং-০২) দায়ের করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এ ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষককে মারধরের ঘটনার জের ধরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ইতোমধ্যে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে।