চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

নতুন বাংলা বছরের প্রথম সকাল, সময় তখন ভোর ৬টা। আকাশে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়তেই ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে জন্ম নেয় নতুন এক প্রাণ। সীমা রাণী ও পঙ্কজ রায়ের ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান—লোকনাথ।

নববর্ষের এমন শুভক্ষণে সন্তানের আগমন পরিবারের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। জন্মের পরপরই যখন নবজাতককে বাবার কোলে তুলে দেওয়া হয়, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন এক মুহূর্ত। সদ্য মা হওয়া সীমা রাণীর মুখে ফুটে ওঠে পরম তৃপ্তির হাসি।

নববর্ষের প্রথম শিশুর খবর পেয়ে ক্লিনিকে ছুটে আসেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উজ্জ্বল আহমেদ বিজয়। তিনি নবজাতক ও তার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন।

পঙ্কজ রায়ের বাড়ি নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। তিনি ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর পরিবারে অনেকেই চিকিৎসা পেশায় রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সন্তান জন্মের আগেই তার নাম ঠিক করেছিলেন ‘লোকনাথ’। বাবার স্বপ্ন, বড় হয়ে ছেলে একজন মানবিক চিকিৎসক হবে—যে শুধু পেশা নয়, মানুষের সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করবে।

বিশেষ করে হাসপাতালে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তির দৃশ্য পঙ্কজ রায়কে নাড়া দেয়। তাই তিনি চান, তাঁর সন্তান যেন ভবিষ্যতে সেই কষ্ট লাঘবে কাজ করে এবং মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

মা সীমা রাণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। বিয়ের এক বছর তিন মাস পর এই দম্পতির প্রথম সন্তান পৃথিবীতে এলো। পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে সন্তান জন্মের আগে থেকেই সীমা রাণী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শনিবার তিনি একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। বৈশাখের প্রথম প্রহরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় লোকনাথ। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. সাবরিনা সুলতানা শারমিন।

তিনি জানান, নিয়মিত চেকআপ ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের কারণে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। নববর্ষের সকালে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পেরে চিকিৎসক দলও আনন্দিত।

অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক উজ্জ্বল আহমেদ বিজয় বলেন, নববর্ষের শুরুতেই এমন একটি খুশির সংবাদ পুরো হাসপাতালের পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তুলেছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে নবজাতক ও তার পরিবারকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

এদিকে, সন্তানের জন্মে খুশিতে আত্মহারা পঙ্কজ রায় আত্মীয়-স্বজন ও হাসপাতালের সবার মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন।

মা সীমা রাণী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, নতুন বছরের প্রথম সকালেই সন্তানের জন্ম পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার। সন্তানের মুখ দেখার পর সব কষ্ট ভুলে গেছেন তিনি।

পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন মুহূর্ত এখন স্মরণীয় হয়ে থাকবে পুরো পরিবারের কাছে—আর ছোট্ট লোকনাথকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক নতুন স্বপ্নের পথচলা।