‎নিজস্ব প্রতিবেদক

‎ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বর্তমান পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবং মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় তিন দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সনাতনীরা। ৫ই আগস্ট পরবর্তী প্রতিকূল সময়ে মন্দির রক্ষায় সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান কমিটির আমূল পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে।

‎সাধারণ সনাতনীদের দাবি, মন্দিরের বর্তমান কমিটি একটি ‘চক্র’ হিসেবে কাজ করছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা শত শত কোটি টাকার অনুদান মন্দিরের প্রকৃত উন্নয়নে ব্যয় না হয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের শৃঙ্খলা ফেরাতে তাঁরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎মন্দিরের ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য সমুন্নত রাখতে নিম্নলিখিত দাবিগুলো পেশ করা হয়েছে:

‎১. আমিষ বর্জনঃ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে মন্দির প্রাঙ্গণে মাছ, মাংসসহ সকল প্রকার আমিষ খাবার গ্রহণ অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
‎২. সমমর্যাদা ও সরকারি সুবিধাঃ ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে কেবল নামমাত্র ‘জাতীয় মন্দির’ হিসেবে রাখা চলবে না। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সরকারিভাবে যে ধরনের বাজেট, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা পায়, ঢাকেশ্বরী মন্দিরকেও সমমানের রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করতে হবে।
‎৩. প্রতিনিধিত্বশীল কমিটি গঠনঃ বর্তমান পকেট কমিটি ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশের সকল হিন্দু সংগঠনের সমন্বয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে।

‎প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৫ই আগস্টের পর যখন মন্দির অরক্ষিত অবস্থায় ছিল, তখন বর্তমান কমিটির অনেককেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে সময় সাধারণ সনাতনীরাই রাতের পর রাত জেগে মন্দির পাহারা দিয়ে এর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আপনারা ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার দেখালেও মন্দিরের স্বার্থে আমরা পিছুপা হব না। সকল সংগঠনের সাথে সমন্বয় করে কাজ না করলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"

‎সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট চক্রের হাতে মন্দির জিম্মি থাকায় সাধারণ হিন্দুরা মন্দিরের সুফল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অবিলম্বে এই তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।