চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছয় মাস বয়সী শিশু গৌরীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ শয্যার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু শয্যা সংকটে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় পড়ে সে। শেষ পর্যন্ত আইসিইউর সুযোগ মেলে—তবে তখন আর গৌরী বেঁচে নেই।
গত শনিবার দুপুরে গৌরীর মৃত্যু হয়। পরদিন রোববার দুপুরে হাসপাতাল থেকে আইসিইউ শয্যা খালি হওয়ার খবর জানাতে ফোন করা হলে ততক্ষণে তার নিথর দেহ শ্মশানে পৌঁছে গেছে।
গৌরী নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার চাঁইপাড়া গ্রামের সোহাগ কুমার ও বন্দনা রানী দম্পতির প্রথম সন্তান। পরিবার জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার অবনতি হলে গত বুধবার তাকে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পাঠানো হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে চিকিৎসক দ্রুত আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীর সিরিয়াল ২৭ নম্বরে—তার আগে আরও ২৬ শিশু আইসিইউ শয্যার অপেক্ষায়।
আইসিইউ না পেয়ে গৌরীকে সাধারণ ওয়ার্ডে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। শনিবার দুপুরে অবস্থার অবনতি হলে আবারও আইসিইউ বিভাগে যোগাযোগ করেন তার বাবা সোহাগ কুমার। কিন্তু সিরিয়ালের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়। কিছুক্ষণ পরই মারা যায় গৌরী।
পরদিন হাসপাতাল থেকে ফোন এলে শোকাহত বাবা শুধু বলতে পারেন, “আমাদের আর আইসিইউ লাগবে না। গৌরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।” কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার মেয়েটা তো চলে গেল, আর যেন কোনো বাবা-মাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়। আইসিইউ শয্যা বাড়ানো দরকার।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে বর্তমানে শিশুদের জন্য ১৮টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হামের রোগীদের জন্য এবং ৬টি অন্যান্য রোগীর জন্য বরাদ্দ। তবে রোগীর তুলনায় এটি অপ্রতুল হওয়ায় অনেক শিশুকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, অধিকাংশ শিশু সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছে, ফলে আইসিইউর চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন একটি আইসিইউ ওয়ার্ড স্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এই নিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।