চ্যানেল ওম আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

ভারতের হিমালয় অঞ্চলের পবিত্র গঙ্গোত্রী মন্দির-এ প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন এক নিয়ম নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশের আগে ‘পঞ্চগব্য’—যার মধ্যে গোমূত্র মিশ্রিত পবিত্র জল থাকে—পান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান ধর্মেন্দ্র সেমওয়াল দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো “প্রকৃত বিশ্বাসী”দের চিহ্নিত করা এবং অ-সনাতনী বা ছদ্মবেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা ভক্তিভাব নিয়ে আসবেন, তাদের কাছে এই প্রথা কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নতুন নিয়ম অনুসারে, প্রবেশপথেই দায়িত্বরত কর্মীরা দর্শনার্থীদের এই মিশ্রণ পান করাবেন; কেউ তা প্রত্যাখ্যান করলে তাকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

পঞ্চগব্য মূলত দুধ, দই, ঘি, মধু এবং গোমূত্রের সংমিশ্রণ, যা হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এটিকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে আরোপ করায় সমালোচনা বাড়ছে। অনেকের মতে, এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্থানের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের পরিপন্থী, এমনকি কিছু হিন্দু ভক্তের কাছেও এটি অস্বস্তিকর হতে পারে।

এই ঘোষণা এসেছে বার্ষিক চারধাম যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে, যেখানে গঙ্গোত্রীসহ যমুনোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ—এই চারটি তীর্থস্থান পরিদর্শনে প্রতিবছর লাখো ভক্ত সমবেত হন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাত মাসেরও কম সময়ে এই চার মন্দিরে ৫১ লাখের বেশি দর্শনার্থী গিয়েছিলেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে, গত মার্চে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি তাদের অধীনস্থ ৪৭টি মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, গঙ্গোত্রী মন্দিরের এই নতুন বিধিনিষেধ সেই রক্ষণশীল প্রবণতারই ধারাবাহিকতা।

এদিকে গোমূত্রের ব্যবহার ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি বিষয়। শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-ঘনিষ্ঠ কিছু গোষ্ঠী এর সম্ভাব্য উপকারিতা প্রচার করে থাকলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে সতর্ক করে আসছেন। ফলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির এই দ্বন্দ্ব ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।