যীশু সেন
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংগীত মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের ইতিহাস, জীবনধারা ও মূল্যবোধ সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। পুরানো দিনের গান, লোকগান, দেশাত্মবোধক গান কিংবা ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মাধ্যমে একটি জাতির পরিচয় বহন করা হয়। ফলে সংগীত একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাগীশ্বরী সংগীতালয় শুদ্ধ সংগীতচর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা স্মরণ করেন হারানো দিনের সেই সুরেলা সংগীতকে—যেখানে কথার সঙ্গে সুরের এক অনবদ্য মেলবন্ধন ছিল, ছিল মানবিকতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং জীবনের সরল আবেগের নিখুঁত প্রকাশ। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সেই সময়ের গান কেবল বিনোদনের মাধ্যমই ছিল না; বরং তা ছিল আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারক, যা মানুষকে ভাবতে, অনুভব করতে এবং সমাজকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যবাহী সংগীতের মূল্য তুলে ধরতে এমন আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত দেন বক্তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম অতীতের এই সুরধারাকে ধারণ করে ভবিষ্যতের সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং সবাইকে এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। ২১ ও ২২ এপ্রিল বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত এই উৎসবের ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার
প্রথম দিনেই প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীতশিল্পী আব্দুর রহিম।
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় সংগীতানুষ্ঠান। ‘পঞ্চকবি’র স্মরণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও অতুল প্রসাদ সেনের অমর সৃষ্টিগুলো পরিবেশন করেন প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী। অদ্রি সেন, সজীব চৌধুরী, অর্পিতা দাস, সনাতন দাশ, আকাশ দত্ত, অদ্রিতা চৌধুরী, ঋষিক রায়, অংকিতা সেন, অধর দত্ত, বৃষ্টি ঘোষ,আদ্রিতা চৌধুরী, ভবতোষ রুদ্র, সুদীপ্ত দাশ, সৃষ্টি বণিক, প্রিয়ন্তী দাশ, নয়ন গুহ, অনিন্দিতা চৌধুরী, নিলাদ্রী দাশ, কৈলাশ বিহারী সেন, চুমকী নন্দী, টিসু সেন, রিয়া দাশ, আনন্দ সেন, বর্ণা দে, মনিষা সরকার, রিমন সাহা, উমা সেন, অপূর্ব শীল, তৃষ্ণা দাশ, মম দাশ, স্বস্তিকা নন্দী, তীর্থ শীল, আরাধ্যা চক্রবর্ত্তী, অহর্নিশ সাহা, পুনম দাশ,সুইটি বর্মন, শ্রেয়া দাশ, রাজদীপ দাশ, অপূর্বা তালুকদার, মৌবনী সেনগুপ্তা, অহেনজিতা দাশ, সোহান হোসেন, অদ্রিজা চৌধুরী, অদ্রিতা ব্যানার্জি, অমৃতা চক্রবর্তী, পারমিতা চন্দ, ঐন্দ্রিলা চক্রবর্তী, প্রিয়ন্ত দাশগুপ্ত, পৃথুরাজ দাশ দীপ, কোমল ধর, তৃষাগ্নী তালুকদারসহ অসংখ্য শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনায় মিলনায়তন ভরে ওঠে সুরের মূর্ছনায়।
এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিন, ২২ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান, যা ছিল নানা আয়োজনে সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত। দিনব্যাপী কর্মসূচির পর সমাপনী পর্বে আলোচনা সভা, অর্ধশত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা প্রদান, বার্ষিক মূল্যায়ন পরীক্ষার সনদ ও পুরস্কার বিতরণ এবং মনোমুগ্ধকর সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরো আয়োজনটিকে মহিমান্বিত করে তোলে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত।
অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীতশিল্পী আব্দুর রহিম। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেন, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার। আবৃত্তিশিল্পী অদিতি সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাগীশ্বরীর ২১ বছর পূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক যীশু সেন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী রিমন সাহা, ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী, ডা. সৌমিত্র দাশ, অধ্যাপক ছন্দা শর্মা, শিক্ষক মো. মশিউল আনোয়ার খান, শিক্ষক এনি নাথ, শিক্ষক সমীরণ সেন, শিক্ষক পলাশ দে প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অর্ধশত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাদানে অবদান রাখা এসব গুণী শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ছিলেন ছন্দা শর্মা, সৌমেন দাশ, রশ্মি চৌধুরী, শান্তা চক্রবর্তী, লাবনী প্রভা দত্ত, যীশু সেন, পম্পি মল্লিক, স্বাতী সেন, সুস্মিতা দাশ, এনি নাথ, সরস্বতী চৌধুরী, মোঃ মশিউল আনোয়ার খান, শিপীকা কুণ্ডু, পুতুল রাণী ধর, জয়ন্তী রাণী রায়, তুলিকা ভট্টাচার্য্য, ঝুমুর খাস্তগীর, শুভ্রা চৌধুরী, জয়শ্রী দত্ত, বর্ণা তালুকদার, সনাতন দাশ, রূপক ভট্টাচার্য্য, নিরুপম দাশ, মুন্না ভট্টাচার্য্য, সুমি সেন, মনিষা সরকার, জয়শ্রী চক্রবর্তী, সুভাষ চক্রবর্তী, রুমকি সেন, সমীরন সেন, রুমি দত্ত, কলি সরকার, সুধাংশু বিকাশ দাস, ডা. সৌমিত্র দাশ, শোমা খাস্তগীর, প্রিয়াংকা দত্ত, কনিকা পাল, রনি চক্রবর্তী, বিজয়লক্ষ্মী দত্ত, মম দাশ, তমা দত্ত, পলাশ দে, অদিতি সাহা।
সংগীতানুষ্ঠানে বিভিন্ন গ্রুপে শিল্পীরা পরিবেশন করেন হৃদয়গ্রাহী সংগীত। সুফিয়া কামাল, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কবি আল মাহমুদ, কবি জসীম উদ্দিন, কবি জীবনানন্দ দাশের নামে গঠিত গ্রুপগুলোতে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন ডা. সৌমিত্র দাশ, মৌমিতা বিশ্বাস, রিয়া দে, বিজয় দেবনাথ, কাঞ্চন দাশ, প্রিয়া দেব, ঝুমুর খাস্তগীর, মিথুন দাশ, চিন্ময় দে, প্রিয়ন্তী দাশ পূর্বা,বৃষ্টি চক্রবর্তী, সৌরভ সাহা, সমীরণ সেন, তৃষ্ণা দেবনাথ, স্নিগ্ধা দাশ, নিলয় সেনগুপ্ত, দীপা মিত্র, ললিত নারায়ণ দাস, স্নেহা মজুমদার, ঝিনুক রাণী নাথ, এড. সব্যসাচী আচার্য, ছন্দা শর্মা, মো. মশিউল আনোয়ার, শুভ্রা চৌধুরী, লাবনী দত্ত, হিমেন গুহ, পারমিতা চৌধুরী, স্বস্তিকা মজুমদার, পূর্ণা বণিক, অস্মিতা বড়ুয়া, নিকিতা বিশ্বাংগ্রী, অর্জুন তালুকদার, অপর্ণা চৌধুরী, স্নেহা দাশ, নিধি রুদ্র, মো. আলমগীর, সৌরি বড়ুয়া প্রমূখ।
যন্ত্রে সহযোগিতায় করেন কিবোর্ডে কে বি পলাশ, অক্টোপ্যাডে মানিক দাশ, বাঁশিতে নিলয় দে, বেস গিটারে মো: মঈন উদ্দিন মিলন, তবলায় রূপক চক্রবর্তী, সৌমেন দাশ ও পলাশ দে।
বার্ষিক মূল্যায়ন কৃতি শিক্ষার্থীদের সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে একক, দ্বৈত ও দলীয় সংগীতে প্রায় চার শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে টিআইসি মিলনায়তন মুখরিত হয়ে উঠে সুরের মূর্ছনায়। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন শুদ্ধ সংগীতের এক অনন্য আসর। প্রথম দিনের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে বাগীশ্বরী সংগীতালয় কেবল একটি সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যা ভবিষ্যতেও শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।
অনুষ্ঠান
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের বর্ষপূর্তিতে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সংগীতানুষ্ঠান ও অর্ধশত শিক্ষক সংবর্ধনা
April 27, 2026
39 Views
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.