চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
আধুনিক বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনি এক অনন্য প্রতিভা—যার হাত ধরেই বাংলা সিনেমা প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার আসন লাভ করে।
১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিল্প-সাহিত্যনির্ভর এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে ওঠা রায় পড়াশোনা করেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং পরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এ, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্যেও তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
মধ্য বয়সে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করলেও দ্রুতই তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পান। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী (১৯৫৫) মুক্তির পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় এবং বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
জীবদ্দশায় তিনি ৩২টি কাহিনীচিত্র ও ৪টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। তার কাজ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের, যেমন মার্টিন স্কোরসেস-কে। কান, বার্লিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে তার সিনেমা প্রদর্শিত হয়েছে এবং তিনি অর্জন করেছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক অস্কার প্রদান করা হয়।
সত্যজিৎ রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো প্রথম রঙিন বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ। তার নির্মিত কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২) এই ক্ষেত্রে পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চিড়িয়াখানা (১৯৬৭), গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৮), প্রতিদ্বন্দ্বী (১৯৬৯), সোনার কেল্লা (১৯৭৪), জন অরণ্য (১৯৭৫) এবং আগন্তুক (১৯৯১)।
আজ তার জন্মদিনে, চলচ্চিত্রপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই মহান নির্মাতাকে—যার সৃষ্টি আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে।
আন্তর্জাতিক
আজ কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী
May 2, 2026
34 Views
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.