চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাদকাঠী গ্রামের দাসনগর এলাকার তিন অসহায় প্রতিবন্ধী ভাইয়ের মানবেতর জীবনযাপনের সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে মানবিক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। মা-বাবা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই তিন ভাইয়ের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। তিনি তাদের মধ্যে দুইজনের আজীবনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাধন দাস এবং বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রিপন দাস ও নিদু দাস নানা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। কয়েক বছর আগে বাবা রতন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হলে মা সরস্বতী রানীই ছিলেন তাদের একমাত্র আশ্রয়। গত মাসে মায়ের মৃত্যুর পর তিন ভাই সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন।

মায়ের কবরের পাশে খাবারের প্লেট হাতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় তিন ভাইয়ের বসে থাকার হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য স্থানীয়দের নাড়া দেয়। পরিবারের বড় বোন ভারতে বসবাস করায় এবং অপর ভাই দিনমজুর হওয়ায় তাদের নিয়মিত দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছিল না।

তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হলে বাউফল উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ কেজি চাল ও ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের সুস্থ সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন উদ্যোগ গ্রহণ করে। সংগঠনটির মাধ্যমে পলাশবাড়ী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস বলেন, “শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, এটি মানবসেবারও কেন্দ্র। আমি দুই ভাইয়ের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তাদের থাকার জন্য মন্দিরে একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের দেখভালের জন্য আলাদা সেবায়ত নিয়োগ দেওয়া হবে এবং আমার নিজের খাবারের অংশ থেকেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ভাইদের মন্দিরে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া তাদের নামে কোনো সম্পদ বা অর্থ থাকলে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি পরিবারকে জানিয়েছে। পরিবার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনার জন্য একদিন সময় নিয়েছে। সম্মতি পাওয়া গেলে আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের নতুন আশ্রয়ে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের নামে আসা সহায়তার অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্থানীয়দের আশা, সরকারি সহায়তা ও ব্যক্তিগত মানবিক উদ্যোগের সমন্বয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই তিন ভাই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।