যীশু সেন

বিশিষ্ট ধর্মীয় বক্তা, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট রূপম চক্রবর্তী বলেছেন, “মানবিক চেতনা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
দেবীপক্ষ সনাতনী পরিবারের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মিলনমেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
গত ১২ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর তাসফিয়া গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, পুরস্কার বিতরণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেবীপক্ষ সনাতনী পরিবারের সিনিয়র এডমিন বাবুল দে এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ধর্মীয় বক্তা, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট রূপম চক্রবর্ত্তী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ডেন্টাল সার্জন ডা. অরুণ মণ্ডল, চট্টগ্রাম আইনজীবী সহকারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ রায় পুলক, কাদেনা স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপক রবিন দে অমল এবং অ্যাডহেশন গ্রুপ লিমিটেডের উৎপাদন ব্যবস্থাপক উজ্জ্বল চক্রবর্তী।
গ্রুপ এডমিন মিশন চৌধুরী ও মিশন মজুমদারের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন গ্রুপের এডমিন প্যানেলের সদস্য মলি বিশ্বাস, প্রিয়াঙ্কা দাশ, মেরী চক্রবর্তী, নবনীতা দাশ, শাপলা চৌধুরী মুন্নী ও নারায়ণ ঘোষ। এছাড়া মডারেটরদের মধ্যে বক্তব্য দেন কান্তা মুখার্জি, স্বর্ণালী চক্রবর্তী, প্রীতি রক্ষিত, মিশুক ভৌমিক, শিবলু শর্মা ও মিষ্টি সরকার।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সনাতনী সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেবীপক্ষ সনাতনী পরিবার সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বক্তারা
আরও বলেন, এ ধরনের মিলনমেলা সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজের সার্বিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সনাতনী সমাজের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন— সিংহ দুয়ার, সনাতনী প্রিয়মুখ, মুক্তধারা, গল্প কুটির, বন্ধুত্বের মিলনমেলা এবং মনোহর গ্রুপকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংগঠনিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে উপস্থিত অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেন।