বিশ্ব বাবা দিবসে আমার বাবা স্বর্গীয় অর্জুন চৌধুরী সহ সকল বাবার প্রতি রইল শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও প্রণাম। আসলে ছেলের কাছে নিদিষ্ট কোন বাবা দিবস নেই, প্রতিদিনই বাবা দিবস। কিন্তু বর্তমানে খুব দুঃখ লাগে যখন দেখি ছেলের কাছে বাবা বোঝা হয়ে ঘর ছাড়া হয়, বৃদ্ধাশ্রমে বাবার জায়গা হয়। বাবার খোঁজখবর রাখে না ছেলে,একদিন একাকিত্বের স্বাদ নিয়ে চিরবিদায় নেয় বাবা, জানে না ছেলে বাবা কোথায়? তখন ঘৃণায় ভরে উঠে মন ঐ সন্তানের উপর। বাবা হচ্ছে বটবৃক্ষের মতো। সবকিছু সয়ে নেয়, দুঃখগুলো বুকে রেখে দেয় লুকিয়ে! বাবা হচ্ছে ভরসার প্রতীক,বজ্রের মতো কঠিন আবার তুলোর মতো নরম। আমরা ৬ বোন ২ ভাই, মাবাবা সহ ১০ জনের পরিবার আমার বাবার একজনে আয়ে চলতো। আমাদের শৈশব কালে দেখেছি বাবার কি অদম্য সাহস,কঠোর পরিশ্রমী,ন্যায়নিষ্ঠা একজন আদর্শ খাঁটি মানুষ। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে বিশাল একটি পরিবার সুচারু রূপে পরিচালনা করেছেন।
মানুষের মত মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছেন। দৈনিক আমাদের পরিবারে ১০ জনের ভরণপোষণ, ভাইবোনের লেখাপড়া,সামাজিকতা,পারিবারিক খরচ পরিচালনায় হিমশিম খাওয়া এ মানুষটা দক্ষ মাঝির মত সংসার নামক এ নৌকার হাল ধরেছেন। আসলে বাবারা নিজেদের জন্য অনেক হিসেবি ও কৃপণ হয়। বাবাদের শার্টগুলো বেশিরভাগ সময় মা-দের শাড়ি থেকে কম দামী হয়, বাবাদের ওয়ারড্রপ ভর্তি শার্ট-প্যান্ট থাকে না। বাবাদের জুতা চলে বছরের পর বছর, আর শরীর অসুস্থ হলে যেন কিছুই হয়নি। ডাক্তার দূরে থাক, ওষুধের দোকানে যেন যেতেই চায় না। একা খেতে হলে সবচেয়ে সস্তা হোটেল খোঁজে, একা কোথাও গেলে বাসে চড়ে যায়। রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে সঞ্চয় করে, অথচ স্ত্রী -সন্তানকে সাধ্যের সবচেয়ে দামী জিনিসগুলো কিনে দিতে চায়। বাবারা একান্ত বাধ্য না হলে কখনো নিজের জন্য কিছু কিনে না, যেন নিজের জন্য সবচেয়ে মিতব্যয়ী। বাবারা তার স্ত্রী -সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি বেহিসাবি। বেশিরভাগ বাবাই আজীবন তাদের ভাগের বিলাসিতার ভাগ দিয়ে স্ত্রী -সন্তানকে ভালোবেসে যায়। আমার বাবা ১৯৯৬ সালে দিব্যধামে গমন করেন। সময় যতই পেরিয়ে যাক, বাবার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর স্নেহ, মমতা, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজও আমাদের জীবনের পথ দেখায়। বাবা ছিলেন আমাদের পরিবারের আশ্রয়, সাহস ও প্রেরণার উৎস। তাঁর মুখের সেই মধুর হাসি,চোখভরা শাসন, স্নেহভরা ডাক এবং সন্তানের জন্য নিরন্তর আশির্বাদ আজও হৃদয়ে গভীরভাবে অনুভব করি।
বাবা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি ছিলেন আমাদের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তাঁর ভালোবাসার গভীরতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
আজ বাবাদিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও স্নেহময় জীবনকে।
তিনি আমাদের শিখিয়েছেন সততা, ধৈর্য, মানবতা ও ভালোবাসার মূল্য।
বাবা আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর শিক্ষা ও স্মৃতি প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে।
বাবার শাসন, স্নেহ, ত্যাগ ও আদর্শ আজও আমাদের পথ চলার প্রেরণা।
বাবা, তুমি নেই— কিন্তু তোমার স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি।
জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে তোমার শেখানো সাহসই আমাদের শক্তি জোগায়। বাবা থাকলেই পৃথিবী সুন্দর। যার বাবা নেই শুধু তারাই জানে বাবা না থাকার যন্ত্রণা। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলি, বাবা তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি!


লেখক
সুজিত চৌধুরী
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি - পার্থ সারথী গীতা শিক্ষা নিকেতন। ওয়ার্লেস, খুলশী, চট্টগ্রাম।