দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় প্রেমঘটিত কারণে এক কিশোরীর আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার প্রেমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, শ্মশানে প্রেমিকার সৎকার চলতে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তরুণটি। পরে নদীর তীরে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রীমহন্তপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে প্রিয়া রানী দাস (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

একই দিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের উমরপাইল জালিয়াপাড়ায় আত্রাই নদীর তীরে একটি গাছ থেকে কাকন রায়ের (১৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং পরিতোষ রায়ের ছেলে। গত বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হন।

৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির আনাফ জানান, কাকন রায় নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। তিনি বোচাগঞ্জের ওই কিশোরীকে পছন্দ করতেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে কিশোরীটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে শ্মশানে সৎকার সম্পন্ন হয়।

চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিকার সৎকার চলাকালে কাকন রায় আত্রাই নদীর পাশে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় দুই পরিবারের কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রিয়া রানী দাস গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আর কাকন রায়ের ঘটনাটি দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার আওতাভুক্ত এলাকায় হওয়ায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা বিস্তারিত জানাতে পারবে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কাকন রায়ও আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।