চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। একই সঙ্গে জমি দখল ও দখলচেষ্টার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নারী নির্যাতন, উপাসনালয়ে হামলা এবং বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো কিছু সূচকে ঘটনার সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের বিভিন্ন ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে।

ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪০টি হত্যাকাণ্ডে ৪৪ জন ধর্মীয় সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। এতে মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৭.৩৩ জন, যা ২০২৫ সালের মাসিক গড় ৫.৫ জনের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনায় কিছুটা ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২৫ সালে মোট ২৮টি ঘটনা ঘটেছিল। মাসিক গড় হিসেবে এ হার প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজামণ্ডপে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। একইভাবে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

তবে জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ ধরনের ১৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যা মাসিক গড়ে ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, কিছু সূচকে সহিংসতার হার কমলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এখনো কাটেনি। অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। এ সময় সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, রঞ্জন কর্মকার, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের জীবন, সম্পদ ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।