পঞ্চগড়ে প্রতিমন্ত্রীর ভাইরাল ভিডিওর প্রতিবাদে সনাতনীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শনিবার (১ আগস্ট) পঞ্চগড় শহরে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক সনাতনী নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এতে এক সনাতনী নারীকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।
দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায় এবং বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায়সহ স্থানীয় নেতারা।
অজয় কুমার রায় বলেন, “এআইর মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে সনাতনীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।”
দীপ্তি রানী নামে এক নারী বলেন, “প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এক সনাতনী নারীকে জড়িয়ে এআই ব্যবহার করে কুৎসা রটানো হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
এদিকে, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে “সম্পূর্ণ ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট দল-মতের লোকজন বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, দ্য ডিসেন্ট দাবি করেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয় এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে থাকা নারী অমুসলিম। তবে শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক নারী নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ওই নারী অভিযোগ করেন, ভাইরাল ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্টে তাঁর পুরোনো ছবি ব্যবহার করে ভুল পরিচয় প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হলেও অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলেন। ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের তিন দিন আগে তিনি সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলেও দুই ঘণ্টা পর তা মুছে ফেলেন। কিন্তু ছবিটি সংরক্ষণ করে পরে ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অপপ্রচার বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি প্রচার না করার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.