চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

বাঙালির শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে মহালয়ার ভোর এবং সেই ভোরের অবিচ্ছেদ্য কণ্ঠ—বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর অনন্য চণ্ডীপাঠ ছাড়া মহালয়ার আবহ যেন পূর্ণতা পায় না। গ্রাম থেকে শহর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর কণ্ঠই দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা বহন করে আসছে।

আজ, ৪ আগস্ট ২০২৬, কিংবদন্তি এই আবৃত্তিকার ও বাচিকশিল্পীর ১২১তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৫ সালে কলকাতার আহিরীটোলায় তাঁর জন্ম। শৈশবেই ঠাকুরমা যোগমায়া দেবীর কাছে সংস্কৃত শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। মাত্র আট বছর বয়সেই তিনি চণ্ডীপাঠ শুরু করেন, যা পরবর্তীকালে তাঁকে ইতিহাসের অংশ করে তোলে।

কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল রেলওয়ের সদর দপ্তরে। তবে শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ তাঁকে রেডিয়োর জগতে নিয়ে আসে। ১৯২৮ সালে ‘চিকিৎসা সংকট’ নাটক পরিচালনার মাধ্যমে রেডিয়োতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। এরপর ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠানে তাঁর কালজয়ী চণ্ডীপাঠ বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।

১৯৯১ সালে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর কণ্ঠ আজও অমর। প্রতি মহালয়ার ভোরে তাঁর সেই দরাজ উচ্চারণে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, আর নতুন করে জেগে ওঠে বাঙালির আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্য।

মহালয়ার সেই চিরন্তন কণ্ঠস্বর, বাঙালির পুজো সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ১২১তম জন্মবার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর প্রণাম।