"পদ নয়, মেধার নেতৃত্ব চাই; তরুণ সামনে, প্রবীণ পাশে" : বরুণ চন্দ্র সরকার
"সংগঠন মানেই শুধু সভা, মিছিল কিংবা পদ-পদবি নয়; সংগঠন মানে মানুষের মেধাকে জাগিয়ে তোলা, দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করা এবং সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা।"— এমন মন্তব্য করেছেন সনাতনী সমাজের প্রবীণ সংগঠক বরুণ চন্দ্র সরকার।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থেকে আজ সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো— "এত সংগঠন, এত নেতৃত্ব, এত কর্মসূচি থাকার পরও কেন আমরা বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশিত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারছি না? আর যদি কিছুটা পারিও, তাহলে কেন সেখান থেকে যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব উঠে আসছে না?"
বরুণ চন্দ্র সরকারের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো সমাজের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা। তিনি বলেন, "আমরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে পদকে বেশি গুরুত্ব দিই। অথচ একটি সমাজকে এগিয়ে নেয় মানুষের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা।"
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নেতৃত্বের সংজ্ঞা বদলে গেছে। "আজ কথার জোরের চেয়ে লেখালেখি, প্রযুক্তি, জ্ঞান, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অনেক বেশি শক্তিশালী। যে সমাজ প্রযুক্তি ও মেধাকে গুরুত্ব দেবে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারাই তৈরি করবে।"
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "শুধু সহানুভূতি দেখালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন তরুণ নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে আত্মমর্যাদার সঙ্গে দাঁড়াতে পারবে।"
তরুণ ও প্রবীণের সম্পর্ক নিয়ে বরুণ চন্দ্র সরকার বলেন, "তরুণদের আছে উদ্ভাবনী শক্তি, সাহস ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা। প্রবীণদের আছে অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা। এই দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।"
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "তরুণকে সামনে এগিয়ে দিতে আমার কোনো অহংকার নেই। একজন তরুণ যদি আমার চেয়ে ভালো নেতৃত্ব দিতে পারে, আন্তর্জাতিক পরিসরে সনাতনী সমাজকে আরও মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পারে— সেটাই হবে আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সাফল্য।"
বরুণ চন্দ্র সরকার আরও বলেন, "পদ দিয়ে নেতা বানানো যায়, কিন্তু মেধা ছাড়া নেতৃত্ব সৃষ্টি করা যায় না।" তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের সংগঠন হবে দক্ষতা, প্রযুক্তি, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক।
শেষে তিনি সনাতনী সমাজের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ব্যক্তি নয়, আদর্শকে বড় করতে হবে; পদ নয়, দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে; আর মেধার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন একটি বার্তার মাধ্যমে—
"তরুণ সামনে, প্রবীণ পাশে।
মেধা হোক শক্তি, যোগ্যতা হোক নেতৃত্ব, আর ঐক্য হোক আমাদের আগামী দিনের পথ।"
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.