চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ দেশের গানে প্রথম স্থান অর্জনকারী রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী রায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী অনুশ্রীর সংগীতচর্চার খোঁজখবর নেন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সংগীতচর্চায় উৎসাহ দিতে তার চিঠিতে চাওয়া হারমোনিয়ামটি উপহার হিসেবে তুলে দেন।

এ সময় অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গান শোনায়। তার পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিভার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় অনুশ্রী ও তার পরিবার গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিল। চিঠিতে সে সংগীতচর্চার জন্য একটি হারমোনিয়ামের প্রয়োজনের কথা জানায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ও তার পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুভূতি জানাতে গিয়ে অনুশ্রী বলে, “আমি কখনো ভাবিনি, আমার লেখা চিঠি প্রধানমন্ত্রী পড়বেন এবং আমাকে সাক্ষাতের জন্য ডাকবেন।”

সে আরও জানায়, “সংগীতচর্চার জন্য একটি হারমোনিয়াম খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের পরিবারের পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব ছিল না। তাই চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের দিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে একজন কর্মকর্তার হাতে দিই। ভেবেছিলাম, হয়তো চিঠিটি আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে না। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ফোন করে জানান, প্রধানমন্ত্রী আমার চিঠি পড়েছেন এবং আমাদের সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন। তখনও বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আজ প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আমাকে হারমোনিয়াম উপহার দিয়েছেন।”

অনুশ্রী জানায়, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী স্নেহভরে তার সঙ্গে কথা বলেন, সংগীতচর্চার বিষয়ে খোঁজ নেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুশীলনের পরামর্শ দেন। এরপর তার সংগীত-সাধনায় উৎসাহ দিতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হারমোনিয়ামটি উপহার হিসেবে তুলে দেন। এ সময় অনুশ্রী প্রধানমন্ত্রীকে একটি দেশাত্মবোধক গানও শোনায়।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আবেগাপ্লুত অনুশ্রীর বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে উৎসাহ দেবেন—এটা কখনো কল্পনাও করিনি। বিভিন্ন সময় আমি তাকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা বলতাম। সেখান থেকেই তার বিশ্বাস জন্মায়, চিঠি লিখলে হয়তো সাড়া পাওয়া যাবে। সেই বিশ্বাস থেকেই সে চিঠি লিখেছিল। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার কাছ থেকে হারমোনিয়াম উপহার পাওয়াকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে দেখছে অনুশ্রী ও তার পরিবার। তাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর এই উৎসাহ ভবিষ্যতে অনুশ্রীকে একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী হিসেবে গড়ে উঠতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।