হাসপাতালের ছাদে 'মৃত্যুর দেবতা' সেজে ভয় ছড়ালেন তরুণ, শেষমেশ গ্রেপ্তার
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের একটি হাসপাতালের ছাদে ‘গ্রিম রিপার’ (মৃত্যুর প্রতীকসদৃশ চরিত্র) সেজে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী লিওন গিলেস্পিকে জরিমানা করেছে আদালত।
তবে লিওন গিলেস্পির দাবি, তিনি ‘গ্রিম রিপার’ সেজে ছিলেন না; বরং কাকের পোশাক পরেছিলেন। কিন্তু তার অস্বাভাবিক আচরণের কারণে হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে যেতে হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জুন মাসে উত্তর ওয়েলসের ইয়সবিটি গ্লান ক্লুইড হাসপাতালের ছাদে। কালো আলখাল্লা পরিহিত গিলেস্পির হাতে কাস্তের মতো দেখতে একটি লম্বা বস্তু ছিল। তিনি প্রায় ৫০ মিনিট হাসপাতালের ছাদে অবস্থান করেন এবং নিচে থাকা রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে খবর দেন।
পরে পুলিশ তাকে ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে। আদালতে তিনি এনএইচএস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অযৌক্তিকভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ স্বীকার করেন। এ অপরাধে আদালত তাকে ২০০ পাউন্ড জরিমানা করেন।
একই শুনানিতে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি পৃথক দোকানচুরির মামলার জরিমানাও যুক্ত হওয়ায় আদালত তাকে মোট প্রায় ৪৫০ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল পরিচালনাকারী বেটসি ক্যাডওয়ালাডার ইউনিভার্সিটি হেলথ বোর্ড জানায়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভয়ভীতি সৃষ্টি, আগ্রাসী আচরণ বা জনদুর্ভোগের মতো ঘটনায় তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসাসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্য ছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগেই লিওন গিলেস্পির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.