চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণের আলামত পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ময়নাতদন্তের কাজে নিয়োজিত এক ডোম দাবি করেছেন, নিহত তরুণী আগামী চক্রবর্তী ও তাঁর মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর যৌনাঙ্গে বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এতে ডোমের বক্তব্য ও চিকিৎসকের বক্তব্যে নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই ডোমকে ময়নাতদন্তের সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, নিহত তরুণীর যৌনাঙ্গে বীর্যের মতো পদার্থ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসক তাঁকে ধর্ষণের কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা দেখতে বলেন। পরে ওই পদার্থ দেখতে পেয়ে চিকিৎসকের নির্দেশে নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওই ডোমের ভাষ্য অনুযায়ী, চারটি পৃথক স্থানে বীর্যের নমুনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি নমুনা পুলিশ নিয়ে গেছে এবং দুটি মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, চিকিৎসক বিষয়টি অস্বীকার করছেন কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তা বলতে পারলাম না। ডাক্তার জানে আর রিপোর্ট জানে।’

এ ছাড়া নিহত তরুণীর মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর যৌনাঙ্গেও বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং সেখান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

চিকিৎসকের বক্তব্য ভিন্ন:

রংপুর মেডিকেল কলেজের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন, চারটি মরদেহে এসিড বা কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামতও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এ কারণে ডোমের দাবি কতটা সত্য, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ময়নাতদন্তের সময় কোনো তরল পদার্থ বা বীর্যের মতো উপাদান পাওয়া গেলেই সেটিকে ধর্ষণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ওই পদার্থ কার, সেটি আসলে কী এবং কীভাবে সেখানে এসেছে—তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

ফলে নমুনার পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এখন ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।