গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শাহবাগে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং ঢাকায় অবস্থানরত রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীসহ সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা শুধু স্বজনদের নয়, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। তাই তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি, অসঙ্গতি বা প্রভাবের কারণে যেন প্রকৃত সত্য আড়ালে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধনে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নিহত আগামী চক্রবর্তী ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে এক বান্ধবীকে বাসায় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। অথচ আসামিদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মধ্যরাতে। এই দুই তথ্যের মধ্যে থাকা অসঙ্গতি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, ঘটনার রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণ এবং পাশের মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা হঠাৎ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নিহত আগামী চক্রবর্তী গত মে মাসে এক বান্ধবীর কাছে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। তিনি কারও কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন কি না কিংবা কোনো ধরনের আশঙ্কায় ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে পুরো পরিবার উদ্ধারের আগে প্রায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার সময়ে প্রতিবেশী, পরিচিতজন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা প্রয়োজন।
বক্তারা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক প্রমাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন। সেই অর্থের বর্তমান অবস্থান কী, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি। গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর ছোট ছেলে প্রিয়মকে গলায় যে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটির ডিএনএ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষারও দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের আলামত নিয়ে ওঠা অমিল এবং মৃতদেহের মুখ ঝলসানোর বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়েও গভীর তদন্তের দাবি করা হয়। পুরো পরিবারকে হত্যার পেছনে সম্পত্তি দখলের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না এবং এতে কোনো প্রভাবশালী আত্মীয় বা নিকটজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর করে এত বড় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করা উচিত নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেনসহ সব ধরনের ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি নিহতদের পরিবার ও পুরো সমাজের অধিকার। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
পরে শাহবাগ থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মৌন মিছিলের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.