মৃত্যুশয্যায় মা, চিন্ময় কৃষ্ণকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন, কর্তৃপক্ষের ‘না’
গুরুতর অসুস্থ ৭১ বছর বয়সী মা সন্ধ্যা রাণী ধরকে দেখতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি (প্যারোল) দেওয়ার আবেদন করেছে তার পরিবার। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির কোনো বিধান নেই।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর দায়িত্বপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এ আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, স্বজন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে অসুস্থ কাউকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির সুযোগ নেই। বিষয়টি চিন্ময়ের পরিবারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রণীত প্যারোল-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নিকটাত্মীয়—বাবা, মা, স্ত্রী বা সন্তান—মারা গেলে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কিংবা শেষবারের মতো বিদায় জানানোর জন্য বন্দিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্যারোলের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা।
চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানান, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে চিন্ময় সবার ছোট। তাদের মা সন্ধ্যা রাণী ধর হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। প্রায় এক মাস ধরে তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত শনিবার থেকে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
রঞ্জন কুমার ধর বলেন, চিকিৎসকরা তাদের মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন। কিছুটা কথা বলার সময় মা চিন্ময়কে একবার দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। মায়ের সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই শেষবারের মতো তাকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় তাদের বাড়ি। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাবেক সংগঠক এবং সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.